সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন ১১ জানুয়ারি ২০২৬ , ৫:১৯:২৫ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জুলাই গণহত্যার ঘটনায় রাজশাহীতে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার অন্যতম মূল আসামি ও রাজশাহীর সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং অভিযোগে বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা মোট ৪১টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১১ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) অবরুদ্ধকরণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, লিটনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে চলমান অনুসন্ধানের স্বার্থে এসব ব্যাংক হিসাব সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ করার আবেদন জানানো হয়। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে তদন্ত কার্যক্রমে গতি আনতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেন।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের পক্ষ থেকে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন (পিতা—এ এইচ এম কামারুজ্জামান, মাতা—জাহানারা জামান) রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন কাদিরগঞ্জ এলাকার নূর মঞ্জিলে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণে দেখা গেছে—লিটন তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে অপরাধলব্ধ অর্থ স্থানান্তর করেছেন। এসব অর্থ দিয়ে তিনি সম্পদ অর্জন, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং আর্থিক সুবিধা ভোগ করেছেন, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ২(শ) ধারার আওতাভুক্ত অপরাধ হিসেবে গণ্য।
অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আদালতকে জানান, তদন্ত চলমান অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টরা যাতে কোনোভাবেই ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন, স্থানান্তর বা বিদেশে পাচার করতে না পারেন, সে জন্য দ্রুত হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা জরুরি হয়ে পড়ে।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫)-এর ১৪(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর ২৯(২) ধারার বিধান অনুযায়ী আদালতের অনুমতি চাওয়া হলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এ সংক্রান্ত আবেদনটি আদালতে দাখিল করেন।
উল্লেখ্য, সাবেক এই মেয়রের বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যাসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। সর্বশেষ এই মানিলন্ডারিং অনুসন্ধান তাকে ঘিরে চলমান আইনি জটিলতাকে আরও গভীর করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
















