অপরাধ - দূর্নীতি

যুবদলের ছত্রছায়ায় শ্রমিক লীগ নেতার ‘সম্মানজনক সমাধান’?

  সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন ১১ জানুয়ারি ২০২৬ , ১০:২৫:০৮ প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে নিয়োগ বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশের পর নতুন করে একাধিক তথ্য ও অভিযোগ সামনে এসেছে, যা রাজনৈতিক নৈতিকতা ও দলীয় অবস্থান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের শ্রমিক লীগ সংশ্লিষ্ট এক নেতাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।

এর আগে প্রকাশিত সংবাদে পশ্চিমাঞ্চল রেলের সরঞ্জাম দপ্তরের অফিস সহকারী ও শ্রমিক লীগের প্রচার সম্পাদক মোঃ সত্যব্রত ইসলাম হৃদয়ের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, প্রতারণা এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলে ধরা হয়। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ, প্রকাশ্যে ফোনালাপ এবং প্রশাসনের কাছে দেওয়া নালিশের তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে আসে। তবুও অভিযোগ রয়েছে—সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে বিষয়টি ‘সমাধান’-এর পথে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোনো একটি চেম্বারে যুবদলসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা উপস্থিত থেকে অভিযুক্ত হৃদয়কে নিয়ে আলোচনায় বসেন। সেখানে কোনো শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে তাকে তার সুবিধা মত সমাধান দেওয়া হয় —ভুক্তভোগীকে কিছুদিন অপেক্ষা করতে বলা হয় এবং ২ মাসের মধ্যে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথাও বলা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ ও শহীদ জিয়াউর রহমানের ঘোষিত রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে এ ধরনের অবস্থান সাংঘর্ষিক।

এই ঘটনার সঙ্গে যুবদলের নাম ব্যবহারকারী শাহীন ওরফে বালতি শাহীনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আগের প্রতিবেদনে তাকে ১৯ নম্বর ওয়ার্ড (দক্ষিণ) যুবদলের আহ্বায়ক পদপ্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। যুবদলের শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতা অবশ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন—শিরোইল কলোনির শাহীন যুবদলের কোনো অফিসিয়াল সদস্য নন। তবে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত যুবদলের কর্মীসভায় যারা পদপ্রার্থী হিসেবে আবেদন করেছিলেন, সেই তালিকা থেকে শাহীনের নাম গণ্য হিসেবে রয়েছে সে তথ্য রয়েছে, যদিও বিষয়টি এখনও যুবদলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

এই বিষয়ে শাহীনের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। প্রতিবেদকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বা নির্দিষ্ট স্থানে আসার অনুরোধ জানান , শুধু বক্তব্য নেওয়ার কথা বলা হলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

গত ৮ জানুয়ারি (সংবাদ প্রকাশের পর) শাহীন নিজেই একটি পত্রিকায় প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি নিজেকে যুবদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে উল্লেখ করেন, যা তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

পুরো বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হলে রাজশাহী মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি হোয়াটসঅ্যাপে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন ।

 

এর আগে প্রকাশিত অভিযোগ অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চল রেলের নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে সাবেক কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন ও রাসেদ ইবনে আকবরের নামও উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পরিবর্তন হলেও নেপথ্যে থেকে তারা প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছেন। এসব অভিযোগ বর্তমানে প্রশাসনিক তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

 

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে কীভাবে আওয়ামী লীগের দোসররা রাজনৈতিক আশ্রয় পায়?

কোন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় শ্রমিক লীগের নেতা হৃদয় আজও বহাল থাকেন?

যুবদলের নাম ব্যবহার করে সিন্ডিকেট চালানোর সাহস শাহীনের এলো কোথা থেকে?

তদন্ত কমিটি আদৌ কার্যকর হবে, নাকি আগের মতোই ফাইলচাপা পড়ে থাকবে?

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের নিয়োগ বাণিজ্য এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো অভিযোগ নয়। এটি একটি সংগঠিত, রাজনৈতিক ছত্রছায়াপুষ্ট সিন্ডিকেট, যেখানে আদর্শ, শহীদের রক্ত ও ন্যায়বিচার—সবই বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

আরও খবর

Sponsered content