নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহীর সীমান্তবর্তী উপজেলা গোদাগাড়ীতে দিনদিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে মাদক কারবার। এলাকাবাসীর ভাষ্য—হাতে গোনা কয়েকজন চিহ্নিত কারবারির মাধ্যমেই পুরো উপজেলাজুড়ে সিন্ডিকেট করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ফেনসিডিল, ইয়াবা আর প্রাণঘাতী হেরোইন। রাতারাতি এই বিষাক্ত ব্যবসায় ফুলেফেঁপে উঠেছে একটি চক্র—কোটি টাকার সম্পদ, জমি, দামি গাড়ি, বিলাসী জীবন।
স্থানীয় সূত্র বলছে, এলাকায় সক্রিয় শীর্ষ ২০ কারবারির একটি তালিকা তৈরি হয়েছে, এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—মাদারপুর: জাহাঙ্গীর, নওসাদ আলী, টিপু, মনির, জহুরুল মেম্বার, ইব্রাহিম ও শামীম। জেলেপাড়া: তরিকুল। সরমংলা: মিজান, আদিল ও কাবা। সিএনবি মোড়: শীষ মোহাম্মদ। ফাজিলপুর: আনারুল ও বুলবুল। মাটিকাটা: সোহেল চেয়ারম্যান। রেলগেট: নয়ন ডাক্তার। মেডিকেল পূর্বপাড়া: দুরুল ও রাজা। মহিশালবাড়ী: মোফা কমিশনার ও কাজল। হলের মোড়: শরিফ উদ্দিন।
দীর্ঘদিন ধরে অবাধে এই ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া এই চক্রটি অবৈধ অর্থের জোরে হয়ে উঠেছে প্রভাবশালী। দেশজুড়ে নামে-বেনামে কিনেছে জমি, বাড়ি। ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। এলাকার যুবসমাজ পড়েছে চরম ঝুঁকিতে—এমনটাই উদ্বেগ সচেতন অভিভাবক ও এলাকাবাসীর।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মাঝেমধ্যে অভিযান হলেও মূল হোতারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। এতে ক্ষুণ্ন হচ্ছে পুরো এলাকার সুনাম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত আছে এবং তালিকাভুক্তদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। তার ভাষায়, অপরাধী যেই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজ দাবি জানিয়েছেন নিয়মিত সমন্বিত অভিযান, বিশেষ নজরদারি ও জনসচেতনতা বাড়ানোর।
পরের প্রতিবেদনে থাকছে—এই সিন্ডিকেটের অর্থের উৎস ও সম্পদের বিস্তারিত অনুসন্ধান।



















