নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নওগাঁর ধামইরহাটের বাসিন্দা মোছা. ছাবিনা (৪৩)। স্থানীয়রা চেনেন ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ নামে। ভারতের সীমান্ত থেকে হেরোইন আর ইয়াবা এনে সারা দেশে পাইকারি-খুচরা বিক্রি — এটাই ছিল তার কারবার। আর সেই অবৈধ টাকা ঢেলেছেন জমিতে, বাড়িতে, ব্যাংকে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই সাম্রাজ্য এবার আইনের জালে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়, রাজশাহীর তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। মাদকের টাকায় ছাবিনা ব্যাংকে লেনদেন করেছেন ৮৭ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা। কিনেছেন ৭১.৭৫ শতাংশ জমি, খরচ ৬১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা। বানিয়েছেন ২টি দোতলা ভবন, যেখানে গেছে ২ কোটি ২১ লক্ষ টাকারও বেশি।
শুধু তাই নয়। অর্থ গোপন রাখতে নিজের মেয়ে সালমা খাতুনের (২২) নামেও কিনেছেন ১৩ লক্ষ টাকার জমি এবং বানিয়েছেন ৮২ লক্ষ টাকার ভবন। মা-মেয়ে মিলিয়ে মোট অবৈধ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৬৫ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকারও বেশি।
এই বিপুল অর্থের উৎস লুকাতে ছাবিনা টাকা স্থানান্তর, রূপান্তর আর হস্তান্তর করেছেন পরিকল্পিতভাবে — যা মানিলন্ডারিং আইনে সরাসরি অপরাধ। গত ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ধামইরহাট থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫)-এ মামলা দায়ের করে। এর আগে থেকেই ছাবিনার নামে মাদক আইনে ৬টি এবং Special Powers Act-এ ১টি মামলা আদালতে বিচারাধীন ছিল।
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত ৯ সেপ্টেম্বর মা-মেয়ে স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হন এবং জামিন চান। কিন্তু ধামইরহাটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জামিন নামঞ্জুর করে দুজনকেই পাঠিয়ে দেন জেলহাজতে। সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত, নওগাঁর আদেশে ইতোমধ্যে সব সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছে।
মামলাটি এখন বিচারাধীন। মানিলন্ডারিং আইনে সাজা হলে সর্বোচ্চ ১২ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা ছাবিনার এই মাদক সাম্রাজ্যের পরিণতি কী হয় — সেটা দেখার জন্য চোখ রাখুন সকালের বুলেটিনে।



















