রাজশাহীর জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সকালের বুলেটিন – Sokaler Bulletin
বৃহস্পতিবার , ১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. উত্তরবঙ্গ
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দুর্ঘটনা
  11. দুর্নীতি অনুসন্ধান
  12. ফটো গ্যালারি
  13. বাণিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বুলেটিন স্পেশাল

৪ কোটির বিল, ১% কমিশন: চেক নিতেও ঘুষ গুনছেন রেলের ঠিকাদাররা

প্রতিবেদক
সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন
অক্টোবর ১, ২০২৬ ৬:০৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  টেন্ডারে কাজ পাওয়া থেকে শুরু করে কাজের বিল পাস—রেলের বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। এবার সেই অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন দাবি—কাজের বিল পাস হওয়ার পরও চেক নিতে হিসাব শাখায় দিতে হচ্ছে ১ শতাংশ কমিশন।

রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলের সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিওএস) দপ্তরের বিভিন্ন টেন্ডারে কাজ পাওয়া কয়েকজন ঠিকাদারের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, বিল পাস হওয়ার পর হিসাব শাখায় গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজান সাহেব বিলের ১ শতাংশ কমিশন দাবি করেছেন। কমিশন দেওয়ার পরই তারা বিলের টাকা গ্রহণ করতে পেরেছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার।

ঠিকাদারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিওএস দপ্তর থেকে বিভিন্ন ঠিকাদারের প্রায় ৪ কোটি টাকার কাজের বিল পাস হয়েছে। ওই বিলের টাকা নিতে হিসাব শাখায় গেলে ১ শতাংশ কমিশন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে অভিযোগ। হিসাব অনুযায়ী, ৪ কোটি টাকার ওপর ১ শতাংশ হলে অঙ্কটি দাঁড়ায় প্রায় ৪ লাখ টাকা।

অভিযোগকারী কয়েকজন ঠিকাদার জানান, তাদের কেউ কেউ দীর্ঘদিন রেলের টেন্ডারে কাজ পাননি। বর্তমানে টেন্ডারে অংশ নিয়ে কাজ পাওয়ার পর কাজটি নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করার পরিকল্পনা থাকলেও বিলের সময় এসে কমিশনের দাবিতে তারা বিপাকে পড়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার বলেন, কমিশনের বিষয়ে সরাসরি প্রতিবাদ করলে ভবিষ্যতে রেলের কোনো টেন্ডারে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তারা অনেকটা বাধ্য হয়ে দাবি করা টাকা দিয়েছেন। কারও ক্ষেত্রে ১ শতাংশের কিছু কম নেওয়া হলেও অধিকাংশ ঠিকাদারকে পুরো ১ শতাংশ কমিশন দিতে হয়েছে বলে তাদের দাবি।

এক ঠিকাদারের ভাষ্য, ‘কাজ পাওয়ার পর কাজটি ভালোভাবে শেষ করার জন্য হিসাব করে এগিয়েছিলাম। কিন্তু বিল পাওয়ার সময় নতুন করে কমিশনের বিষয় সামনে আসায় পুরো হিসাবই বদলে গেছে। অভিযোগ করলে ভবিষ্যতে কাজ পাওয়া নিয়ে সমস্যা হবে—এই ভয়ও আছে।’

আরেক ঠিকাদার প্রশ্ন তোলেন, হিসাব শাখার একজন কর্মকর্তা যদি সরাসরি কমিশন দাবি করেন, তাহলে তিনি একা এই অর্থ রাখবেন কি না, নাকি এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের দাবি, বিষয়টি শুধু একজন কর্মকর্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে বের করা উচিত।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, পশ্চিমাঞ্চল রেলের বিভিন্ন টেন্ডারে যোগ্যতার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ দরদাতা বা নির্বাচিত ঠিকাদারের পাশাপাশি রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা ঠিকাদার কাজ পাওয়ার সুযোগ পান। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাজের অনুমোদন ও বাস্তবায়নের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করার খরচও ঠিকাদারদের বহন করতে হয়। এসব অতিরিক্ত ব্যয় পুষিয়ে নিতে গিয়ে কাজের মানে আপস করার প্রবণতা তৈরি হয় —এমন অভিযোগও দীর্ঘদিনের।

অভিযোগের বিষয়ে হিসাব শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজান সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কমিশন নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, ‘ঠিকাদারদের প্রাপ্ত বিল থেকে রেলের ভ্যাট, ট্যাক্সসহ নিয়ম অনুযায়ী যেসব টাকা কাটতে হয়, সেগুলো কাটা হয়। এগুলো ছাড়া অন্য কোনো টাকা নেওয়া হয় না।’

অভিযোগকারী ঠিকাদারদের কাছ থেকে ১ শতাংশ কমিশন নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনাকে কে বলেছে, তার নাম এবং তার কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে সেটা বললে বা তাকে নিয়ে এসে প্রমাণ করাতে পারেন।’

 

অভিযোগের বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলের অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তা (পশ্চিম) গৌরাঙ্গ চন্দ্র দেবনাথের বক্তব্য জানতে তার দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়। প্রথম দিন দপ্তরে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি এবং পরবর্তীতে ফোনও করেননি।

পরদিন ১ অক্টোবর সরেজমিনে তার দপ্তরে গিয়ে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, অভিযোগটির বিষয়ে তিনি অবগত নন। তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

তবে ওই সময় অভিযোগে অভিযুক্ত হিসাব শাখার কর্মকর্তা মিজান সাহেবও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে তার উপস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কোনো প্রশ্ন করা হয়নি।

 

বিল পাস হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদারদের টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও সেখানে যদি অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন হয়ে থাকে, তাহলে সেই অর্থ কেন দিতে হচ্ছে—এটি তদন্তের বিষয়।

একই সঙ্গে অভিযোগকারীরা যদি সত্যিই কমিশন দিয়ে থাকেন, তাহলে কার কাছে, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় টাকা দেওয়া হয়েছে—তার প্রমাণ, লেনদেনের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করাও জরুরি।

 

পশ্চিমাঞ্চল রেলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি কতটা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে এবং হিসাব শাখায় বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সর্বশেষ - বিনোদন

আপনার জন্য নির্বাচিত

রাজশাহীর ডিবি পুলিশ কর্তৃক ১০০ বোতল ফেন্সিডিল-সহ গ্রেফতার: ১

খেলার মাঠ দখল করেই আবারও উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ৩১তম চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা! 

মতিহারে গভীর রাতে অভিযান, অনলাইন জুয়াসহ গ্রেপ্তার ৩

রাজশাহীতে বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী যুব সমাবেশ উদযাপন

জনগনের ভালবাসায় সিক্ত চেয়ারম্যান প্রার্থী রবিউল আলম

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ঋণের দায়ে বিদেশফেরত যুবকের আত্মহত্যা

৩ ফুটওভারব্রীজ ও ১ ব্রীজ নির্মাণ করছে চসিক

রাজশাহীতে প্রেস ক্লাবে সশস্ত্র হামলা: দুই আসামি গ্রেপ্তার, পলাতক সাইদ

চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর কোকেন মামলা : অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে সুবিচার দাবি 

মব সৃষ্টি করে পুলিশ অপমান: রাজশাহীর বেলপুকুর কাণ্ডে উসকানিদাতা গ্রেপ্তার

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial