নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট বড় মসজিদ-সংলগ্ন এলাকায় এক ব্যক্তিকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গালিগালাজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধর করে পরে চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর একটি আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার, কয়েকজন কর্মচারী এবং স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার দিকে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বড়কুটি এলাকার বাসিন্দা বাবু দীর্ঘদিন ধরে সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট ও বড় মসজিদ-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করতেন। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, তিনি বিভিন্ন হোটেলে গ্রাহক নিয়ে যাওয়ার বিনিময়ে কমিশন পেতেন।
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, হোটেল প্রবাসী দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক হোটেলের আড়ালে রুম ডেটিং ও দেহব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে প্রতিদিন সকাল ৭ টা থেকে দুপুর পর্যন্ত সেখানে অবস্থানরত এক নারীকে প্রয়োজনে “কাজের মেয়ে” হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয় অভিযান হলে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ৫ আগস্টের পর থেকে হোটেলটি স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শান্তর প্রভাববলয়ে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের দাবি, হোটেলকে ঘিরে চলা অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিনিময়ে নিয়মিত মাসোহারা দেওয়া হতো। এছাড়া ওই নেতার বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলা রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাবু দীর্ঘদিন ধরে হোটেলের ম্যানেজার লিয়াকত ও কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে কমিশনভিত্তিক কাজ করলেও একপর্যায়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, বাবুর মাধ্যমে বেশি গ্রাহক আসায় হোটেল কর্তৃপক্ষের কমিশন কমে যায় এবং এ কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
ঘটনার দিন বিকেলে বাবু নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হোটেলের সামনে গেলে, অভিযোগ অনুযায়ী, হোটেলের ম্যানেজার লিয়াকত ও কর্মচারী সাগর তাকে উসকানি দেন। একপর্যায়ে বাবু গালিগালাজ শুরু করলে শান্তকে ফোনে ডেকে আনা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, শান্ত ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন বাবুকে প্রকাশ্যে মারধর করেন। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে অভিযোগ করা হয় যে, তিনি পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছেন এবং ছুরি প্রদর্শন করে হুমকি দিয়েছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, সাহেববাজার বড় মসজিদ-সংলগ্ন ব্যস্ত এলাকায় দিনের বেলায় প্রকাশ্যে ছুরি নিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। তাদের ভাষ্য, ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সাজিয়ে বাবুকে একটি ফৌজদারি মামলায় জড়ানো হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, বোয়ালিয়া থানায় মামলা দায়েরের সময় প্রথমদিকে সাক্ষ্য-প্রমাণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে হোটেলের ম্যানেজার -শান্তর কয়েকজন ব্যক্তি থানায় গিয়ে বাদীর পক্ষে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হন। অভিযোগকারীদের দাবি, এর মাধ্যমে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মামলাটিকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, বাবু মাদকাসক্ত হলেও চুরি, ছিনতাই বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তার মাদকাসক্তিকে দুর্বলতা হিসেবে ব্যবহার করে তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে হোটেল প্রবাসীর ম্যানেজার লিয়াকতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এই বিষয়ে শান্ত ভাই যা বলবেন, তাই হবে।” অভিযোগের বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুমা মুশতারী বলেন, বাদী থানায় এসে মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



















