সংঘবদ্ধ হামলা, ছিনতাই ও গুলির ঘটনায় সেনাবাহিনী-পুলিশের যৌথ অভিযান
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার রামচন্দ্রপুর এলাকায় সংঘটিত এক রোমহর্ষক হামলা, ছিনতাই ও গুলি বর্ষণের ঘটনায় কথিত সাংবাদিক ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী নজরুল ইসলাম জুলুসসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী। গ্রেপ্তারকৃত অপর দুইজন হলেন তার ছেলে নাজমুল ইসলাম জিম এবং একই এলাকার বাসিন্দা মনা ইসলাম।
ঘটনার সূত্রপাত ১ জুলাই ২০২৫, বিকেল ৫ টার দিকে। স্থানীয় সিয়াম ইসলাম নামের এক যুবকের সঙ্গে পূর্ব বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য রামচন্দ্রপুর এলাকায় একটি আপস মীমাংসার বৈঠক চলছিল। বৈঠকের এক পর্যায়ে কথিত সাংবাদিক নজরুল ইসলাম জুলুস, তার ছেলে জিম এবং সহযোগী মনা ইসলাম মিলে সিয়ামের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়।
তাকে গলা চেপে ধরা হয় এবং জিআই পাইপ দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এ সময় হামলাকারীরা তার কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। শুধু তাই নয়, তার কাছে থাকা নগদ ২,৪০০ টাকা ও ৫ হাজার টাকা মূল্যের রুপার চেইন ছিনিয়ে নেয়।
আহত সিয়াম প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে হামলাকারীরা। গুলির আতঙ্কে তিনি পাশের একটি ভবনে আশ্রয় নেন। এলোপাথাড়ি গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় জনতা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে প্রতিরোধে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সিয়াম ইসলাম বোয়ালিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বোয়ালিয়া থানা ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ২ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে টিকাপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে নজরুল ইসলাম জুলুস, নাজমুল ইসলাম জিম ও মনা ইসলামকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত নজরুল ইসলাম জুলুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র বহন, ধর্ষণ, জুয়া, মারামারি, সন্ত্রাসী কার্যক্রমসহ মোট ১৫টি মামলা রয়েছে।
তার ছেলে নাজমুল ইসলাম জিমের বিরুদ্ধে রয়েছে ২টি মামলা এবং সহযোগী মনা ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে ৭টি মামলা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নজরুল ইসলাম জুলু একজন পরিচিত অপরাধী এবং এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ প্রভাব বিস্তার করে আসছে। তার ছত্রছায়ায় এলাকায় একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জুলু রাজশাহী প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টাসহ সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্নজনের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করতো।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর তদন্ত ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি নতুন করে দায়ের করা মামলার তদন্তও শুরু হয়েছে।



















