নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজশাহী মহানগরীর সবচেয়ে পরিশ্রমী কিন্তু দীর্ঘদিন অবহেলিত একটি শ্রেণি—পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে এবারের ঈদ। তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) ১ হাজার ২৩৭ জন পরিচ্ছন্ন কর্মীর মাঝে নগদ আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে, যা এই সেক্টরে এক নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নগর ভবনের গ্রিন প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই অনুদান বিতরণ করেন সদ্য দায়িত্ব প্রাপ্ত রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন। অনুষ্ঠানে একে একে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ঈদ উপহারের অর্থ। প্রত্যেক কর্মীকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৬১ লাখ ৮৫ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাসে এই প্রথম এত বড় পরিসরে সরাসরি পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য ঈদ উপহার দেওয়া হলো। দীর্ঘদিন ধরে নগরীর সড়ক, ড্রেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় যারা নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন, সেই কর্মীদের জন্য এটি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়—একটি স্বীকৃতির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, “শহরকে পরিষ্কার ও বাসযোগ্য রাখতে যেসব পরিচ্ছন্ন কর্মী প্রতিদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করেন, তাদের কল্যাণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে শুধু দায়িত্ব দেননি, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনাও দিয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি খালি হাতে আসেননি, বরং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়ে এসেছেন।
তিনি জানান, রাজশাহীকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। নগরীর অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করা, নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি করা এবং পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা তার অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
একইসঙ্গে তিনি জাতীয় পর্যায়ের কিছু উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃষি খাতে উৎপাদন বাড়াতে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা দেশের কৃষকদের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৫ কোটি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য সম্মানী ভাতার বিষয়টিও তার বক্তব্যে উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহীর শহীদদের স্মরণ করা হয় এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়, যা অনুষ্ঠানে একটি আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।
এদিকে অনুদান পেয়ে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি ও আনন্দের ছাপ। অনেকেই জানান, ঈদকে সামনে রেখে বাড়তি খরচের চাপ তাদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই জায়গা থেকে এই সহায়তা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত পরিচ্ছন্ন কর্মী রাজিবুল ইসলাম বলেন, “চাকরি জীবনে এমন সহায়তা আগে কখনো পাইনি। এতে আমাদের অনেক উপকার হবে।” নারী কর্মী মরিয়ম ও সুমাইয়া জানান, সন্তানদের নিয়ে ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন—এই নিশ্চয়তাই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি। অপর কর্মী হারুনুর রশীদ বলেন, এই অনুদান তাদের কাজে আরও উৎসাহ যোগাবে এবং দায়িত্ববোধ বাড়াবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নগর ব্যবস্থাপনায় পরিচ্ছন্ন কর্মীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তারা অনেক সময় প্রাপ্য মর্যাদা পান না। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এই উদ্যোগ শুধু একটি অনুদান বিতরণ নয়, বরং একটি সামাজিক বার্তা—যেখানে মাঠপর্যায়ের শ্রমজীবী মানুষের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে এই উদ্যোগ রাজশাহীর পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জীবনে স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দিয়েছে। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি এটি তাদের কাজের প্রতি সম্মান ও মর্যাদার প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগের পথ আরও প্রসারিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



















