নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানাধীন আইডি বাগান পাড়া এখন এলাকাবাসীর কাছে ‘সরকারি মাদক স্পট’ নামে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে—মোড়ের রেললাইন থেকে খড়ির আড়ৎ পর্যন্ত এবং রেললাইন ঘেঁষা গলির বটতলা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদকের বেচাকেনা চলছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১৮ ঘণ্টাই সক্রিয় থাকে এ কারবার। নেই কোনো বয়সের ভেদাভেদ—পঞ্চম-ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও টাকা দিলেই পাচ্ছে হেরোইন, ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ও গাঁজা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বছরের পর বছর ধরে কিছু পরিবার এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ছোটবেলা থেকেই সন্তানরা দেখে আসছে পরিবারের সদস্যদের মাদক বাণিজ্য ও দ্রুত অর্থ উপার্জন। ফলে অনেকেই পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দিয়ে পারিবারিক ‘দায়িত্ব’ হিসেবে জড়িয়ে পড়ছে অবৈধ আয়ের এই চক্রে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের তরুণ-তরুণীদের বেতনভিত্তিক কর্মচারী হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বটতলা এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করেন রাজিয়া নামের এক নারী, যিনি সামাজিক মাধ্যমে টিকটকার হিসেবে পরিচিত। নিজেকে বিদেশফেরত পরিচয় দিয়ে ব্যাংকে সঞ্চিত অর্থে সংসার চালানোর কথা বললেও স্থানীয়দের অভিযোগ—তিনি আড়াল থেকে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করেন। রাজিয়া, তাঁর মা এবং আরও দুই সহযোগী নিয়মিত লেনদেন তদারকি করেন বলে দাবি এলাকাবাসীর। এছাড়া আরও ২০-২৫টি পরিবার এই মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেলেও নিরাপত্তার কারণে কেউ প্রকাশ্যে নাম বলতে চাননি।
অভিযোগের বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে রাজিয়া বলেন, “আপনার অভিযোগ সঠিক রয়েছে। নিউজ করে কোনো লাভ নেই। আমি আর কী ফেমাস হব—আমি এমনিতেই টিকটকে ফেমাস, অনেকেই আমাকে চেনে, আমার অনেক ফ্যান-ফলোয়ার রয়েছে।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান,মাসিক সভায় আইডি বাগান পাড়ার বিষয়টি সিনিয়রদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান পুলিশ কমিশনার যোগদানের পর প্রথম নির্দেশই ছিল মাদক নির্মূল। নির্বাচনকালেও নিয়মিত অভিযান চালানো হয়েছে।
তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—পুলিশ, ডিবি ও ডিএনসি’র গাড়ি নিয়মিত এলাকায় চলাচল করলেও কেন বন্ধ হচ্ছে না প্রকাশ্য বেচাকেনা? স্পষ্ট হটস্পট চিহ্নিত থাকার পরও কেন দৃশ্যমান পরিবর্তন নেই? দ্রুত ও দৃশ্যমান অভিযানের মাধ্যমে আইডি বাগান পাড়াকে মাদকমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।



















