নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহী মহানগরীর দাশপুকুর আইডি বাগানপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয়—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, প্রায় ২০টিরও বেশি পরিবার এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও সম্প্রতি নতুনভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে ‘টিকটকার রাজিয়া’ নামে পরিচিত এক নারীর নাম, যিনি বিদেশি অর্থের জোরে দ্রুত এই চক্রের আড়ালের নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, রাজিয়া সরাসরি মাঠে না থাকলেও পুরনো মাদক কারবারিদের মাধ্যমে পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন। কার কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ হবে, কোথায় কীভাবে সরবরাহ হবে, এমনকি কার কত ভাগ—সবকিছুই নির্ধারিত হয় তার নির্দেশনায়। কেউ তার বেতনভুক্ত কর্মচারী, আবার কেউ কমিশনভিত্তিক কাজ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। দিনে প্রকাশ্যে চলা এই কার্যক্রম রাতের বেলায় হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে শেষ হয় বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, দিনে কয়েক ঘণ্টা ব্যবসা বন্ধ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে তা পড়ছে না—এমন প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য এবং এমনকি কিছু গণমাধ্যমকর্মীকেও ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ রয়েছে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি মসজিদ কমিটির সদস্য বলেন, “এই বিষয়ে কথা বললে নিজের বিপদ ডেকে আনা হবে। কেউ নিরাপদ না। এখানে যারা আছে, তারা যে কোনো কিছু করতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “সত্য বললে হয়তো মাদকসহ ফাঁসানো হবে, না হয় বাড়িতে হামলা বা আগুন—এসব ভয় থেকেই মানুষ চুপ।”
অভিযুক্ত রাজিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি, ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) জানিয়েছে, রাজশাহীতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা সম্প্রতি বাড়ানো হয়েছে এবং নতুন করে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
এদিকে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—যদি প্রতিদিনের মতো খোলামেলাভাবে এমন কার্যক্রম চলতে পারে, তবে কেন তা দীর্ঘদিন ধরেই দৃষ্টির বাইরে রয়ে যাচ্ছে? তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর অভিযান না হলে এই সিন্ডিকেট আরও বিস্তৃত হয়ে সামাজিক পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলতে পারে।


















