নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিলেও রাজশাহী মহানগরীর দাসপুকুর রেললাইন সংলগ্ন আইডি বাগানপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে জমে উঠেছে মাদকের হাট। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, এটি যেন এক “সরকারি মাদক স্পট”, যেখানে দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮ ঘণ্টাই চলে মাদক সেবন ও বেচাকেনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় অবাধে হেরোইন, ইয়াবা, গাঁজা ও ট্যাপান্টাডলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। এতে করে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়লেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পুরো মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। বিশেষ করে রেললাইন ও আশপাশের নির্জন স্থানগুলোকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন বসছে মাদকের আসর। অভিযোগ রয়েছে, দূর-দূরান্ত থেকেও মাদকসেবীরা সেখানে এসে জড়ো হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক ব্যবসার মূল গডফাদাররা সবসময় আড়ালেই থাকেন। তাদের হয়ে মাঠে কাজ করে কিছু কর্মচারী বা সহযোগী। মাঝে মাঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হলেও অধিকাংশ সময় এসব কর্মচারীরাই আটক হয়। অথচ মূল হোতাদের নাম-গন্ধ পর্যন্ত সামনে আসে না। এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনকে ম্যানেজ ও অদৃশ্য ছত্রচ্ছায়ার কারণেই গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক কারবারিদের কারণে দিন দিন অবনতি ঘটছে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির। চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত ও সামাজিক অস্থিরতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। সন্ধ্যার পর নারী ও শিক্ষার্থীদের চলাচলও অনিরাপদ হয়ে পড়েছে বলে জানান তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানদের নিয়ে আমরা চরম আতঙ্কে আছি। প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হলেও রহস্যজনক কারণে কেউ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মাঝে মধ্যে অভিযান হলেও তা স্থায়ী কোনো সমাধান আনতে পারছে না।”
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ওই এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার এবং স্থায়ী নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পুরো এলাকার তরুণ সমাজ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। সামনে পরিবর্তন দেখতে পাবেন।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে দাসপুকুর রেললাইন এলাকার মাদক বাণিজ্য বন্ধে উদ্যোগ নেবে।



















