নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. আবুল কালাম আজাদ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫(২) অনুসারে মো. আবুল কালাম আজাদকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য আরডিএর চেয়ারম্যান (গ্রেড-২) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজশাহীর নগর উন্নয়ন, পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, আবাসন ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে আরডিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয় একজন যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়েছে বলে আমরা মনে করি। আশা করি তিনি যে সময়টুকু দায়িত্ব পালন করবেন, সেই সময়ে রাজশাহীর উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, সেবার মানোন্নয়ন এবং জনগণের ভোগান্তি দূরীকরণে তিনি কাজ করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণ যদি তাঁর কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তারাই সরকারের কাছে দীর্ঘ সময়ের জন্য তাঁকে দায়িত্বে রাখার দাবি জানাবে। পাশাপাশি আমাদের প্রত্যাশা, অতীতে কর্মচারীরা যেসব বৈষম্যের শিকার হয়েছে, সেগুলো দূর করে একটি সুন্দর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করবেন, যাতে সবাই পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে।”
অন্যদিকে, রাজশাহী দরিখরবোনা, উপশহরের বাসিন্দা নাদিম আবদুল্লাহ বলেন, “আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বলতে চাই, যতটুকু জানি মো. আবুল কালাম আজাদ একজন সৎ, নীতিবান এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে আরডিএকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে বলে আমরা আশা করি। আরডিএ এখন একজন সঠিক অভিভাবক পেয়েছে। তিনি জনগণের ভোগান্তি কমিয়ে নাগরিক সেবাকে আরও সহজ ও কার্যকর করবেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও জনবান্ধব আচরণ ও সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
রাজশাহীর নাগরিকদের প্রত্যাশা, নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আরডিএ আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে এবং নগর উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।



















