নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
শনিবার দুপুরে নগর ভবনের দরজায় যখন জাপানি প্রতিনিধি দল পা রাখলেন, তখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে — শুধুই কি সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে রাজশাহীর জন্য বড় কোনো সুখবর?
সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে রাসিক প্রশাসকের দপ্তরে শুরু হলো আলোচনা — শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, তথ্যপ্রযুক্তি আর বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে। প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তার অবস্থান — বাংলাদেশ সরকারের যথাযথ অনুমোদন ও প্রচলিত আইন মেনেই জাপানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাজশাহীর উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি। শুধু কথায় নয়, কাজেও যে আন্তরিক, তা বোঝা গেল যখন তিনি রাজশাহীর তরুণদের নিয়ে বললেন — মেধাবী, পরিশ্রমী ও কর্মক্ষম। সঠিক প্রশিক্ষণ আর সুযোগ পেলে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জায়গা করে নিতে পারবে।
জাপানের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন — কাওয়ামোতো ইয়াসুহিরো — চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, জাপান গ্রুপ, ইউতা শিগেমোরি — রিপ্রেজেন্টেটিভ ডিরেক্টর, জেনারেল ইনকরপোরেটেড অ্যাসোসিয়েশন হামিংবার্ড, হিদেকি সাকাকিবারা — চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, সান-সান গ্লোবাল এজেন্সি, সেইজি ইশিমোতো — এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, ওয়েস্ট ওকায়ামা মেডিকেল ক্লিনিক ও সিইও, হ্যান্ডসন ল্যান্ড এছাড়াও সঙ্গে ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রফেসর আবু সাঈদ, যিনি এই সেতুবন্ধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে জানা যায়।

চমক এক — জনশক্তি: আলোচনার মূল আকর্ষণ ছিল রাজশাহীর দক্ষ জনশক্তি। জাপানি প্রতিনিধিরা জানালেন, জাপানে বিভিন্ন খাতে কর্মীর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, আর রাজশাহী থেকে প্রশিক্ষিত কর্মী নেওয়ার বিষয়টি তারা ইতিবাচকভাবেই বিবেচনা করছেন।
চমক দুই — সিস্টার সিটি: এর পাশাপাশি উঠে এলো রাজশাহী সিটির সঙ্গে জাপানের দুটি শহরের “সিস্টার সিটি” সম্পর্ক স্থাপনের সম্ভাবনার কথাও — যা বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীর জন্য হতে পারে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এক নতুন মাইলফলক।
চমক তিন — আম: প্রশাসক রিটন এই ফাঁকে তুলে ধরলেন রাজশাহীর কৃষি অর্থনীতির সম্ভাবনার কথাও। তিনি বলেন, রাজশাহীর আম দেশজুড়ে সমাদৃত, আন্তর্জাতিক বাজারেও এর চাহিদা আছে।
রাজশাহীতে আধুনিক হিমাগার গড়ে উঠলে আম দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যাতে লাভবান হবেন কৃষক, আমচাষী আর ব্যবসায়ীরা — আর রপ্তানির পথও খুলে যাবে আরও বড় পরিসরে। তার কথায় স্পষ্ট, এই বৈঠক শুধু কর্মসংস্থান নয়, রাজশাহীর সামগ্রিক অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি অংশ হিসেবেই দেখছেন তিনি।
তিনি আরও যোগ করেন, জাপানি প্রতিনিধি দলের এই আগ্রহ রাজশাহীবাসীর জন্য সত্যিকারের সুসংবাদ। এর মধ্য দিয়ে দক্ষ জনশক্তির জন্য খুলতে পারে আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার, যা দেশের অর্থনীতিতেও ফেলবে ইতিবাচক প্রভাব।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে — তিন চমকের মধ্যে কোনটা আগে বাস্তব রূপ পাবে? সিস্টার সিটি চুক্তি, হিমাগার প্রকল্প, নাকি সরাসরি কর্মী নিয়োগ? পরের ধাপের খবর জানতে চোখ রাখুন সকালের বুলেটিনে।



















