নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: দেশি বীজ সংরক্ষণ, বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদন ও নারী কৃষকের স্বীকৃতির দাবিতে রাজশাহীর পবা উপজেলার তালুকধর্মপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নিরাপদ খাদ্য ও এগ্রোইকোলজি মেলা’। বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় তালুকধর্মপুর এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারে মেলাটি হয়।
তালুকধর্মপুর নারী উন্নয়ন সংগঠন, উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও গ্রিন কোয়ালিশনের উদ্যোগে আয়োজিত মেলার মূল স্লোগান ছিল ‘দেশি বীজ, প্রকৃতিবান্ধব কৃষি – পুষ্টিসমৃদ্ধ আগামীর’। মেলায় নিরাপদ খাদ্য, দেশি বীজ ও কৃষিবৈচিত্র্য এবং জৈব বালাই ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রদর্শনী সাজানো হয়। আয়োজকেরা বলেন, পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চা ছড়িয়ে দেওয়া, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ, কৃষকদের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরাই ছিল উদ্দেশ্য।
আয়োজকদের মতে, টেকসই খাদ্যব্যবস্থার জন্য কৃষকের উদ্ভাবনী উদ্যোগ, গ্রামীণ নারীর জ্ঞান, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ ও প্রকৃতিনির্ভর কৃষিচর্চাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। এ উদ্যোগ কৃষক, যুবসমাজ ও ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াবে বলেও তাঁরা আশা প্রকাশ করেন। বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ‘আজকের উদ্ভাবন, আগামীর পুষ্টি’র আলোকে তাঁরা নিরাপদ খাদ্য, কৃষিবৈচিত্র্য ও এগ্রোইকোলজিকে ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা আঞ্চলিকভিত্তিক স্থানীয় বীজ সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে রাষ্ট্রের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।
তালুকধর্মপুর এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক শিল্পী খাতুন বলেন, “আমরা দেশি বীজ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিনিময়ের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষিবৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখছি। দেশি বীজ আমাদের সম্পদ ও অধিকার। এর সংরক্ষণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষকের স্বনির্ভরতা নিশ্চিতে জরুরি। নারী কৃষকদের আইনি স্বীকৃতি ও এগ্রোইকোলজিভিত্তিক কৃষিনীতি অত্যন্ত জরুরি।”
এগ্রোইকোলজি চর্চাকারী কৃষাণী মোসা. রাকিবা খাতুন বলেন, “জৈব বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় শাকসবজি চাষ করে আমরা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের চেষ্টা করি। এ ধরনের চাষ পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিত করে, উৎপাদন খরচ কমায়, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং পরিবেশের ক্ষতি করে না।”
বারসিকের গবেষক ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম বলেন, “এগ্রোইকোলজি প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন, স্থানীয় জ্ঞানের বিকাশ ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের সমন্বিত ভিত্তি। টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়তে কৃষকের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় সম্পদভিত্তিক কৃষিচর্চার প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রয়োজন।”
বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান বলেন, “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষিবৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব কৃষি এবং ন্যায্য খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এ ক্ষেত্রে তরুণদের নেতৃত্ব কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে দায়িত্বশীল সংযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
আলোচনায় আরও অংশ নেন তালুকধর্মপুরের কৃষাণী শায়লা বেগম, বিলনেপালপাড়া এগ্রোইকোলজি সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক মোসা. সুলতানা খাতুন এবং বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার কৃষিবিদ মো. তৌহিদুল ইসলামসহ অনেকে।
















