নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী তথ্য চেয়ে আবেদন করতে গিয়ে আবেদন গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার, আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারী সাংবাদিকের দাবি, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করার পর জনসংযোগ দপ্তর থেকে ওই আবেদন আপিল কর্মকর্তার কাছে পুনরায় জমা দিতে বলা হয়।

কোন আইন বা আইনের কোন ধারায় এমনটি বলা হচ্ছে—তা জানতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মিশুর কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। তবে ওই ই-মেইলের কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
এরপর ২৫ আগস্ট আরও কিছু তথ্যের জন্য জনসংযোগ দপ্তরে সরাসরি আবেদন নিয়ে গেলে সেটিও গ্রহণ করা হয়নি বলে।
আবেদন জমা দেওয়ার সময় জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মিশু বলেন, এর আগে একটি আবেদন দুই দিন আগে জমা হয়েছে এবং সেটি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাই আগের আবেদনের কাজ শেষ হওয়ার পর নতুন আবেদন দিতে বলা হয়েছে।
তবে সাংবাদিকের পক্ষ থেকে প্রায় সাত দিন পর নতুন করে আবেদন জমা দেওয়ার কথা জানানো হলেও তখনও আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে জানানো হয়। যার অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে।
তথ্য পাওয়ার অধিকার একজন নাগরিকের অধিকার—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, তাদের অনেক কাজ রয়েছে। আগের আবেদনের কাজ শেষ করার পর নতুন আবেদন দিতে হবে বলে ফিরিয়ে দেই।
বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সোহেল রানা, সিনিয়র সহকারী সচিব ও সচিব (আপিল কর্মকর্তা) এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম, আপিলের বিকল্প কর্মকর্তা-এর বক্তব্য জানতে ফোন করা হয়। তবে তারা ফোন না ধরায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টির আইনগত দিক জানতে বাংলাদেশ তথ্য কমিশনের সচিব মোঃ শাহ আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে তথ্য কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা লিটন কুমার প্রামাণিক জানান, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ নতুন করে সংশোধন করা হয়নি এবং প্রতিটি দপ্তরে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে একই আইনি কাঠামো প্রযোজ্য।
তিনি বলেন, আবেদন না নেওয়া এবং আইন অনুযায়ী তথ্য না দেওয়ার বিষয়টি অভিযোগের আওতায় আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে ই-মেইলের পাশাপাশি ডাকযোগেও আবেদন পাঠানোর পরামর্শ দেন তিনি।
লিটন কুমার প্রামাণিক আরও জানান, নির্ধারিত সময়ে তথ্য না পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী আপিল করার সুযোগ রয়েছে। আপিল করেও সমাধান না হলে লিখিত অভিযোগের সঙ্গে আবেদন, ই-মেইলসহ সংশ্লিষ্ট প্রমাণ ডাকযোগে তথ্য কমিশনে প্রেরন করতে হবে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আবেদনকারীর চাওয়া তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
তথ্য অধিকার আইনে তথ্য পাওয়ার জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া থাকলেও আবেদন গ্রহণের পর্যায়েই যদি কোনো আবেদনকারী বাধার মুখে পড়েন, তাহলে প্রশ্ন উঠছে—কোন আইন বা বিধির ভিত্তিতে নতুন আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না?
জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসনিক ব্যস্ততা কি তথ্য অধিকার আইনের আবেদন গ্রহণ না করার কারণ হতে পারে?
আগের একটি আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকার কারণে পরবর্তী আবেদন গ্রহণ না করার কোনো নির্দিষ্ট আইনগত বিধান আছে কি?
আর প্রথম আবেদনটি কেন আপিল কর্মকর্তার কাছে পুনরায় জমা দিতে বলা হয়েছিল—তারও এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।
তথ্য অধিকার আইন নাগরিককে রাষ্ট্র ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য জানার একটি আইনগত সুযোগ দিয়েছে। ফলে তথ্য চাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদন গ্রহণ, তথ্য প্রদান, আপিল এবং অভিযোগ—প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত আইন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
সকালের বুলেটিন মনে করে, বিষয়টি কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করার নয়; বরং একজন নাগরিক ও সাংবাদিক তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করতে গিয়ে কেন আবেদন জমা দিতে পারলেন না—এর স্বচ্ছ ও আইনসম্মত ব্যাখ্যা পাওয়া জরুরি।


















