নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহী মহানগরীর শালবাগান পাওয়ারহাউজ মোড় থেকে বিজিবি স্কুল পর্যন্ত সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও যথাযথ নিয়ম না মেনে কার্পেটিং করায় রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকির শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক।
জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। ফ্যাসিস্ট মেয়র ও কাউন্সিলরদের পলায়নের পর নগরজুড়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা দেখা দেয়। বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ড্রেনের স্ল্যাব ও বৈদ্যুতিক তার চুরি, জলাবদ্ধতা এবং মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পায়। পরে নতুন সরকার গঠনের পর মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করলে নগর উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সিটি কর্পোরেশন জনগণের ভুগান্তি কমানোর জন্য টেন্ডার দেই শালবাগান পাওয়ারহাউজ মোড় থেকে বিজিবি স্কুল পর্যন্ত। এই ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের কাজ পায় “এসকে ট্রেডিং” নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শাকিলুর রহমান শাকিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার কার্পেটিংয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। পিচের সঙ্গে পোড়া মবিল মেশানো হচ্ছে এবং রাস্তার ধুলা পরিষ্কার না করেই কার্পেটিং করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুম শুরু হলে নতুন কার্পেটিং উঠে গিয়ে রাস্তা আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ আবারও বাড়বে।

স্থানীয় আরেক প্রকৌশলী অরিফুজ্জামান সোহেল বলেন, “একজন প্রকৌশলী হয়ে ডাস্ট পরিষ্কার না করে কার্পেটিং শুরু করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এভাবে কাজ করলে রাস্তা টিকবে না। কাজ বন্ধ করে পুনরায় রাস্তা পরিষ্কার করে তারপর কার্পেটিং করতে হবে।”
বিষয়টি নিয়ে মোঃ আসিফুল হাবিব-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছবি ও ভিডিও দেখেও সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, “ওই সাইটের দেখাশোনার দায়িত্বে লিটন সাহেব আছেন, তার সঙ্গে কথা বলেন।” তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত লিটন সাহেব অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে “এসকে ট্রেডিং”-এর পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শাকিলুর রহমান শাকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে স্বীকার করেন যে, উক্ত রাস্তার কাজ তার প্রতিষ্ঠান করছে। পরে রাস্তার ডাস্ট পরিষ্কার না করে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কার্পেটিং করলে সেটি কতদিন টিকবে—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এর জবাব না দিয়ে উল্টো প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন।
তিনি দাবি করেন, প্রতিবেদক নাকি বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে “সালামি” বা টাকা নিয়েছেন। এর জবাবে প্রতিবেদক তাকে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রমাণসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। কারণ, অভিযুক্তের অফিসের ভেতর ও বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদকের দাবি, অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পেরে একপর্যায়ে ইঞ্জিনিয়ার শাকিলুর রহমান শাকিল হুমকিমূলক আচরণ শুরু করেন। তিনি বলেন, “আপনিও রাজশাহীতে থাকেন, আমিও থাকি”, “যেকোনো সময় যেকোনো কিছু হতে পারে”, “আপনাকে তুলে আনা কোনো বিষয় না”, “রাজশাহী ছাড়া হয়ে যাবেন”—এমন ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে সাংবাদিক বোয়ালিয়া মডেল থানা-এ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে।



















